রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে: দেড় লাখ কর্মী নেবে, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৫ মে ২০২৫ | ৭:৪৫ অপরাহ্ন


মালয়েশিয়া আগামী কয়েক মাসে নতুন করে এক থেকে দেড় লাখ বিদেশি শ্রমিক নিতে পারে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মালয়েশিয়ায় দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ংসহ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আশার কথা শোনান।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, লোক নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি লোক নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে সব নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে কর্মী পাঠাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে মালয়েশীয় সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে অচিরেই সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য অধ্যাপক আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৩ মে মালয়েশিয়া সফরে যায়। সফরের অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) প্রতিনিধিদলটি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মানবসম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর (অনানুষ্ঠানিক) সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। এসব বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উপদেষ্টা তাঁর ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত বন্ধু। এই প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, গত বছর বাংলাদেশ সফরের সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পূর্বে সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ থেকে যে সকল কর্মী যেতে পারেননি, তাদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় ৭ হাজার ৯২৬ জন কর্মীকে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং মালয়েশিয়া সরকার এর প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই কর্মীরা মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পাবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আরও জানান, বৈঠকে মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশ থেকে নিরাপত্তাকর্মী, নার্স, কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশাবাদী। প্রধান উপদেষ্টার (অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস) নির্দেশনায় এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যাঁরা মালয়েশিয়ায় আসতে চান, তাঁদের জন্য সত্যিকারের কল্যাণকর কিছু করাই সরকারের লক্ষ্য।”

বৈঠকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা পান। তাঁদের যেন অন্য দেশের শ্রমিকের মতো মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হয়, সে অনুরোধ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।”

অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণের বিষয়েও বৈঠকে অনুরোধ জানানো হয়। এর জবাবে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি তারা মাঝেমধ্যে পরিচালনা করে, সর্বশেষ গত বছরও করা হয়েছিল। তবে যাঁদের ভিসার মেয়াদ একেবারেই নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। এরপরও, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার গাফিলতির কারণে শ্রমিকেরা ভিসা নবায়ন করতে পারেননি, সেসব ঘটনাগুলো বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।