রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

৩৮ বছরেই থামছে প্রবাসীর জীবন, ৪৮% পরিবারের সন্দেহ ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’তে

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩০ মে ২০২৫ | ৮:৫৪ পূর্বাহ্ন


বিদেশে মারা যাওয়া অনেক অভিবাসী কর্মীর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিরূপণ না করে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করা হয়, যা তাদের পরিবারের মধ্যে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়া, ফেরত আসা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও অনেক সময় তা উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘লাশ হয়ে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীর সম্মান ও মর্যাদা’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী ও মৃত অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যরা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও রামরু যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী জানান, ২০২২ সালে রামরুর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত অভিবাসী কর্মীদের গড় বয়স মাত্র ৩৮ বছর। গবেষণায় আরও উঠে আসে, ৪৮ শতাংশ পরিবার মনে করে, তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেথ সার্টিফিকেটে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এর স্বপক্ষে তারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন থাকা, মৃত্যুর আগে পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে জানানো বা অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করেন।

রামরুর ওই গবেষণা অনুযায়ী, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়ে মৃত্যুবরণকারী অভিবাসীদের ৩১ শতাংশ দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা কিংবা হত্যার শিকার হয়েছেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮১৩ জন অভিবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে, যাদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব সেবাস্টিয়ান রেমা বলেন, “অভিবাসীদের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ইস্যু আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরে মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক মৃত্যুসংক্রান্ত প্রটোকলগুলোকে দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “মরদেহ ব্যবস্থাপনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মানজনক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের ছোট ছোট পদক্ষেপ একদিন বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে।”

মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সেলিম রেজা কর্মীদের সচেতনতার অভাবকেও অনেক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন এবং লাশ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

বিএমইটির পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, “পুনরেকত্রীকরণ প্রকল্পে মৃত অভিবাসীদের পরিবারদের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এ টি এম আব্দুর রউফ মন্ডল জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলের মাধ্যমে মরদেহ প্রত্যাবর্তন সম্ভব না হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে তা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, রামরুর গবেষণা এবং এনএইচআরসি ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী, বিমানবন্দরে মরদেহ রাখা ও পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারিত স্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।