রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ইসির বাজেট চাহিদার অর্ধেক, জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের জন্য ২৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩ জুন ২০২৫ | ২:৪৭ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে এই বরাদ্দ নির্বাচন কমিশনের চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনগুলো, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে প্রায় ৫ হাজার ৯২১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল। এর মধ্যে শুধু জাতীয় নির্বাচনের জন্যই প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল।

বরাদ্দ কম হওয়া প্রসঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানান, ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং যখন যা প্রয়োজন, সরকার তা সরবরাহ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বরাদ্দ মূল বিষয় নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার অর্থ ছাড় করবে।”

সোমবার (২ জুন) জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দেড় দশক ধরে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই আমরা নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন, নীতি ও আদেশ সংশোধন এবং সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।”

প্রস্তাবিত বাজেটে ইসির জন্য যে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ২ হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর আগে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইসির জন্য মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে কমে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইসির জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৯৮১ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ২০৯ কোটি টাকা।

ইসির বাজেট বিবরণী থেকে আরও জানা যায়, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য ইসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৯ কোটি ২৫ লাখ ৫ হাজার টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার সংস্থান রাখার প্রস্তাব করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের জন্যও আগামী তিন অর্থবছরে যথাক্রমে প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ, ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ এবং ৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ২৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ছিল ১ হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে ১ হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (যা পরে আরও বেড়েছিল) এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যেখানে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ায় খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছিল।