
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে এই ‘বিকল্প’ বিবেচনা করা হতে পারে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তাদের “আইন লঙ্ঘনের প্রকৃতির” ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, “যদি আইন লঙ্ঘনের প্রকৃতি তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের হয়…তবে আমরা দেওয়ানি মামলা করব এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আর্থিক সমঝোতার কথা বিবেচনা করা হবে।”
গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বলে আসছে, বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ থেকে বহু বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন। সরকারের নির্দেশনায় তৈরি ও গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে এর পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে অনুমান করা হয়।
এই পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক মামলা পরিচালনার জন্য ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান গভর্নর আহসান মনসুর। তিনি বলেন, এ জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ‘লিটিগেশন ফান্ডিং’ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মামলার অর্থ জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান ‘অমনি ব্রিজওয়ে’ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, তাদের নির্বাহীরা এ বছর ঢাকা সফর করে গভর্নরসহ ১৬টির বেশি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এদিকে, পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চাইতে বর্তমানে যুক্তরাজ্য সফর করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
লন্ডনে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটা চুরি হওয়া অর্থ। আইনগতভাবে এবং আমি বলব নৈতিকভাবেও, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত এই অর্থ শনাক্ত করতে সহায়তা করা।”
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবারের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১টি তদন্ত শুরু করেছে।
তবে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের নামে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।