রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

এক মাস পর খুলল রোহিঙ্গা শিবিরের শিক্ষাকেন্দ্র, তবে সংকট কাটেনি

কক্সবাজার প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৪ জুলাই ২০২৫ | ৩:২৩ অপরাহ্ন


প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের চার হাজার শিক্ষাকেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) পুনরায় চালু হয়েছে। তবে এই সমাধানটি শর্তসাপেক্ষ এবং এক মাস পর শিক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) থেকে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ৪ জুন ছাঁটাই হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ইউনিসেফ ও সেভ দ্য চিলড্রেন আশ্রয়শিবিরের সব শিক্ষাকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল।

পরে গত বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষাকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে ছাঁটাই হওয়া ১ হাজার ১৭৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষককে পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করবে ইউনিসেফ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “তহবিল সংকটের কারণে স্থানীয় শিক্ষকদের চাকরির চুক্তি শেষ হয়েছিল। তবে বুধবারের বৈঠকে বন্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এক মাসের মধ্যে শিক্ষকদের পুনর্বহালের জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।”

তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “আপাতত রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠদান শুরু হলেও ইউনিসেফের তহবিল সংকট এখনও রয়েছে। এক মাসের মধ্যে তহবিল সংগ্রহ করতে না পারলে রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠদান আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তাও রয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক নেতা জানান, এক মাসের মধ্যে তাদের পুনর্বহাল করা না হলে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য, তহবিল সংকটের কারণ দেখিয়ে ইউনিসেফ ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশি শিক্ষকদের ছাঁটাই করলেও রোহিঙ্গা শিক্ষকদের বহাল রাখায় এটিকে ‘বৈষম্য’ বলে দাবি করে আন্দোলনে নামেন ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকরা।

শিক্ষাকেন্দ্রগুলো প্রায় এক মাস বন্ধ থাকায় ক্যাম্পে থাকা প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরের পড়াশোনা বন্ধ ছিল। কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা জালাল আহমদ বলেন, “শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোহিঙ্গা কিশোরদের অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।” বালুখালী আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা মদিনা খাতুন জানান, এই সময়ে অনেক কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।