রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

বিপদের দিনে সেবার হাত বাড়িয়ে দিল সেনাবাহিনী

আশ্রয় কেন্দ্রের অসহায় মুখে ফুটল স্বস্তির হাসি
জাকির হোসেন | প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২৫ | ৮:০২ অপরাহ্ন


প্রকৃতির রোষানলে যখন চারদিক প্লাবিত, ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া অসহায় মানুষগুলোর চোখে-মুখে যখন রাজ্যের চিন্তা, ঠিক তখনই মানবতার আলো জ্বেলে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু দেশের সুরক্ষায় নয়, বিপদের দিনে জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে তারা আবারও প্রমাণ করলো, সেনাবাহিনী জনগণেরই বন্ধু।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে দেখা গেল এক আবেগঘন দৃশ্য। ভারী বর্ষণে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর জন্য এক মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে “০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবী টাইগার্স’”-এর দীঘিনালা সেনা জোন।

দীঘিনালা সেনা জোন অধিনায়কের নির্দেশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন রাকিবুল ইসলাম নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে মেডিকেল টিম শুধু ঔষধপত্র দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, পরম মমতায় শুনেছেন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা ৩৬টি পরিবারের শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুর দুঃখ-দুর্দশার কথা। তাদের হাতে বিনামূল্যে তুলে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ক্যাপ্টেন রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এই দুর্যোগের সময় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। শুরুতেই যদি চিকিৎসা না দেওয়া হয়, তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। মানুষের এই বিপদের দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।”

সেনাবাহিনীর এই ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষগুলো।

কৃতজ্ঞতায় ছলছল চোখে মজিবুর রহমান (৫৫) বলেন, “আজ দুদিন ধরে হাত-পায়ে চুলকানিতে বড় কষ্ট পাচ্ছিলাম। কই যাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। স্যারেরা এসে যে ওষুধ দিলেন, তাতে মনে হচ্ছে জানটা বাঁচল। আল্লাহ তাদের ভালো করুক।”

জ্বর-কাশিতে কাতর কুলছুম বেগম (৪৪) বলেন, “কাল থেকে ঠান্ডা, কাশি আর মাথাব্যথায় মরে যাচ্ছিলাম। সেনাবাহিনীর এই সন্তানেরা এসে আমাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিল, ওষুধ দিল। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি।”

দুর্যোগের এই কালো মেঘের মাঝে সেনাবাহিনীর এমন মানবিকতাই যেন এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। তাদের চিকিৎসা সেবা পেয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষগুলোর মুখের মলিন হাসিটাও যেন মুহূর্তেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।