শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

এসএসসিতে রাঙ্গুনিয়ায় এগিয়ে মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল, পিছিয়ে স্কুল

এম মোয়াজ্জেম হোসেন | প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২৫ | ৮:৫৮ অপরাহ্ন


এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সাধারণ স্কুলগুলোকে পেছনে ফেলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর হিসাবে এগিয়ে রয়েছে মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল (কারিগরি) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, এবার ফলাফলে মেধা যাচাইয়ের ‘প্রকৃত চিত্র’ ফুটে উঠেছে এবং অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা কম ছিল।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা জানান, উপজেলায় এ বছর ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৪,২৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩,১৮৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২২ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ৪টি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে পাসের হার সর্বোচ্চ ৮৪.৬২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৫৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
এরপরই রয়েছে মাদ্রাসা। ১৫টি মাদ্রাসা থেকে ৬১৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৯৮ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮০.৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।

অন্যদিকে, উপজেলার ৪১টি স্কুল থেকে ৩,৩২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২,৪৩৬ জন। পাসের হার ৭৩.২৪ শতাংশ, যা বাকি দুই ধারার চেয়ে কম। স্কুলগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫ জন।

সেরা যারা:

* স্কুল: পাসের হারে এগিয়ে থাকা স্কুলগুলো হলো রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। তবে উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৮টি জিপিএ-৫ পেয়েছে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

* মাদ্রাসা: দক্ষিণ শিলক তৈয়বিয়া নূরিয়া ছত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং শিলক মীনা গাজীর টিলা মতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে রাঙ্গুনীয়া নূরুল উলুম কামিল মাদ্রাসা (৫টি)।

* ভোকেশনাল: পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে রাঙ্গুনীয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (ভোকেশনাল শাখা) এবং সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় (ভোকেশনাল শাখা)।

ফলাফল নিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান বলেন, “পাসের হার দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব নয়। এক সময় পাসের হার খুব কম ছিল, পরে ১৫-২০ বছর প্রচুর শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে এবার অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল না বলেই আমরা জেনেছি। ফলে এবার যেটি হয়েছে, তা প্রকৃত মান যাচাইয়ের ফল।”

যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিভাবকদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনার সন্তানদের পড়ার টেবিলে বসতে আরও উৎসাহিত করুন। পড়াশোনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখুন এবং স্মার্টফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।”

আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমতো পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।