
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ভেতরে ও বাইরে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার বিকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল হাফিজ। দুই উপদেষ্টা উখিয়ার বালুখালী (ক্যাম্প-১৮) আশ্রয়শিবিরে যান এবং সেখানকার একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে সার্বিক পরিস্থিতি দেখেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁটাতারের বেড়া নতুনভাবে নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান। মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা উপদেষ্টাদের জানান, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, উল্টো গত এক বছরে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়েছে। তাদের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়েরও বড় দায় আছে। তারা সহায়তা কমিয়ে দিলে সংকট সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবতাটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।”
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টারা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গেও কথা বলেন।