রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২২, আহত দেড় শতাধিক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২১ জুলাই ২০২৫ | ১১:২০ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।

আজ বিকেল ৫টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হয়। সে সময় নিহতের সংখ্যা ১৮ বলা হয়েছিল। পরে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আইএসপিআর জানায়, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯ এ পৌঁছেছে। প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটও নিহত হয়েছেন। রাত ৮টার কিছুক্ষণ আগে আইএসপিআর ২০ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হওয়ার তথ্য দেয়।

পরে রাতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান রাত একটার দিকে প্রথম আলোকে জানান, রাত সাড়ে ১০টায় একজন এবং ১২টার দিকে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

আজ বেলা ১টার পর স্কুল ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। পরে বিধ্বস্ত হয়।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল এই দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আজ বিমানবাহিনীর একটি এফটি–সেভেন বিজেআই ফাইটার এয়ারক্র্যাফট আনুমানিক একটার কিছু সময় পর আমাদের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে। এই দোতলা ভবনের প্রথম তলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বাচ্চাদের ক্লাস। দ্বিতীয় তলায় ছিল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। তার সাথে ছিল প্রিন্সিপালের (অধ্যক্ষের) অফিস মিটিং রুম। একটা কোচিংয়ের ক্লাস চলমান ছিল। ক্র্যাশ ল্যান্ডিং যখন হয়, তখন স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং ওই সময় যে জায়গায় টিচার্স রুমের সাথে যে ল্যান্ডিং হয় ,আঘাত করে, ওই জায়গায় বাচ্চাকাচ্চারা জড়ো হয়েছিল এবং তাদের সাথে হয়তো কিছু অভিভাবকও ছিল।’

ফায়ার ফার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ১৮ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘দ্রুত আমাদের ইউনিট পৌঁছে যায় এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আমাদের মোট ৯টা ইউনিট এখানে কার্যক্রম করেছে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ অবস্থায় আছে এবং আমরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান। সেটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতি এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের দোতালা একটি ভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’

দুর্ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য বিমানবাহিনী ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ অন্তত ৫১ জন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হয়েছে ১৫ শিশু। এ ছাড়া ৯ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। দগ্ধদের মধ্যে এ বি শামীম (১৪) ৯৫ শতাংশ, সায়েন ইউসুফ (১৪) ৯৫ শতাংশ, শামীয়া (১০) ২৫ শতাংশ, মাহিয়া (১৫) ৫০ শতাংশ, নাফিজ (৯) ৯৫ শতাংশ, মাসুকা (৩৭) ৮৫ শতাংশ, বাপ্পী সরকার (৯) ৩৫ শতাংশ, মাহরিন (৪৬) শতভাগ, মাসুমা (৩২) ৬০ শতাংশ, আফনান ফায়েজ (১৪) ৯৫ শতাংশ, মনতাহা (১০) ৫ শতাংশ, রূপি বর্ণ (১০) ৬ শতাংশ, জায়ানা (১৩) ৮ শতাংশ, শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম (৩৭) ১৫ শতাংশ, ইশা (১১) ৬ শতাংশ, পায়েল (১২) ১০ শতাংশ, তাসনিয়া (১০) ৫ শতাংশ, কাব্য (১৩) ২০ শতাংশ, জাকির (৫৫) ৫ শতাংশ, সায়েবা (৯) ১৬ শতাংশ, তৌফিক (১৩) ৯ শতাংশ, নিশি (২৪) ১৩ শতাংশ, আলভিরা (১০) ৫ শতাংশ, নুসরাত (১২) ৬ শতাংশ, জুনায়েদ (১২)১৪ শতাংশ, শ্রেয়া (৯) ৫ শতাংশ, শিক্ষক সুমাইয়া লরিন (৩০) ১৫ শতাংশ, কাফি আহমেদ (১০) ১০ শতাংশ, আয়াত (১৪) ১২ শতাংশ, লিমন (১৭) মাথায় দগ্ধ, রোহান (১৪) ৫০ শতাংশ, আবিদুর রহমান (১০) ২০ শতাংশ, আয়ান (১৪) ৪০ শতাংশ, আরিয়ান আফিফ (১২) ৩৫ শতাংশ, মকিন (১৫) ৬২ শতাংশ, সায়েমা (৯) ৮ শতাংশ ও মেহেরিনের (১১) শরীরের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।