রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭, ২৫ জনই শিশু

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ জুলাই ২০২৫ | ১:০০ অপরাহ্ন


রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের ওপর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

তিনি বলেন, “বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছাড়া বাকি সবাই শিশু।”

নিহত প্রাপ্তবয়স্ক দুজন হলেন পাইলট তৌকির ইসলাম এবং মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক মাহরীন চৌধুরী।

এ ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান ডা. সায়েদুর রহমান।
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, “আমাদের এখানে (জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট) ভর্তি আছে ৪২ জন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছে ২৮ জন।”

সিএমএইচে পাইলট তৌকিরের মরদেহসহ মোট ১৫ জনের মরদেহ রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এখনও ছয়জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন এবং সেখানে আরও তিনজন ভর্তি আছেন, যাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এছাড়া ইউনাইটেড হাসপাতালে একজনের মরদেহ রয়েছে।
তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৭ জন, হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন।”

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা ৪২ জনের মধ্যে পাঁচজন আইসিইউতে রয়েছেন এবং দুজনের ভেন্টিলেশন সাপোর্ট লাগছে। এই পাঁচজনের অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এ হাসপাতালের সঙ্গে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা আছে। তার ভিত্তিতে কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

আহতদের ‘কেইস সামারি’ সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানকার চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

রক্তদাতাদের হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “এখন ১০০ জনেরও কম রক্তদাতা প্রয়োজন। তাই নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতা ছাড়া অন্যরা ভিড় করবেন না। আমাদের ব্যবস্থাপনা করতে অসুবিধা হয়।”

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ১০ জন, সিএমএইচ থেকে ৮ জন, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে একজন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।