রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

কেএনএফ আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র পেলে অবাক হব না : সেনাবাহিনী

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩১ জুলাই ২০২৫ | ১১:৩৭ অপরাহ্ন


পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির যোগসূত্র থাকা ‘অস্বাভাবিক কিছু নয়’ বলে মনে করছে সেনাবাহিনী। এমনকি কেএনএফ আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা এসব কথা বলেন।

কেএনএফ ও আরাকান আর্মির সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আরাকান আর্মি এখন এমন একটি অবস্থায় আছে, তাদের সঙ্গে কেএনএফের যোগসূত্র সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারা মোটামুটি একই গোত্রের মানুষ এবং একই ধরনের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে কেএনএফ আরাকান আর্মির কাছ থেকে যদি কোনো অস্ত্র পেয়েও যায়, তাহলে আমি অবাক হব না।”

তবে তিনি আরও জানান, অব্যাহত অভিযানের মুখে কেএনএফের শক্তি আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “পূর্বের অবস্থা থেকে বহুলাংশে কেএনএফের আধিপত্য ও কর্মক্ষমতা কমেছে। তারা নাজুক অবস্থায় আছে।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে যে দলগুলো আছে, তারা আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে মারামারি, হানাহানি ও গোলাগুলি করে। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কাজ করছে, যাতে এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দায়িত্ব কেবল সেনাবাহিনীর একার নয়। তার ভাষায়, “বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সবাই এটার অংশ। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সেখানকার পরিস্থিতি সহনীয় জায়গায় রাখা সম্ভব।”

ব্রিফিংয়ে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কিছু সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে অভিযানে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ক্যাম্পগুলো গুটিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে যে ক্যাম্পগুলো আছে, সেখান থেকে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সেনাবাহিনী খুব ভালোভাবেই সেখানে কাজ করছে।”