
নানা সংশয় ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে স্বৈরাচার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন, অর্থাৎ আগামী ৫ আগস্ট, জাতির সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে বহুল আলোচিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতেই এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। তবে ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত হলেও এর সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা দিয়ে ২৬ দফার এই ঘোষণাপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এর শেষের পাঁচটি দফায় আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার এবং একটি শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে বিএনপির মতামতের ভিত্তিতে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব এবং ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘোষণাপত্রটির সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণাপত্রটি সংবিধানের প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, যা এর সর্বোচ্চ সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করবে। দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ঘোষণাপত্রের অবশ্যই সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে”।
অন্যদিকে, বিএনপি মনে করে এই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কোনো প্রয়োজন নেই। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘোষণাপত্রের কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না”। বিএনপি এটিকে একটি রাজনৈতিক দলিল হিসেবে রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষণের পক্ষে এবং সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কেবল চতুর্থ তফসিলে একটি অনুচ্ছেদ হিসেবে এর উল্লেখ রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা খসড়ার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে এবং চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র দেখার আগে কোনো মন্তব্য করবে না।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা, নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।