শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি-কাজু প্রকল্পে কোটি টাকা ‘লুটপাট’

কৃষকের ভাগ্য ফেরেনি, তদন্তের দাবি
রিজভী রাহাত | প্রকাশিতঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৫ | ২:১৮ অপরাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের দারিদ্র্য কমানোর একটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে।

৪১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নত জাতের চারা, সার, সেচ ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি দেওয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র কিছু নিম্নমানের চারা দিয়েই বেশিরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের চারা, সার, সেচ সরঞ্জাম ও প্রক্রিয়াকরণ মেশিনসহ নানা সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসময়ে দেওয়া কিছু নিম্নমানের চারা ছাড়া আর কিছুই পাননি তারা। ফলে বেশিরভাগ চারা মরে গেছে এবং প্রকল্পভুক্ত জমিতে তারা এখন জুম ও সবজি চাষ করছেন।

রুমা উপজেলার বটতলী পাড়ার কৃষক ক্যাসা মারমা ও মংক্য মারমা বলেন, দুর্গম এলাকার বাগানগুলোতে কোনো সুবিধাই দেওয়া হয়নি, শুধু পরিদর্শনের জন্য রাস্তার পাশের কয়েকটি বাগানে কিছু চারা দেওয়া হয়েছে। ময়ুর পাড়ার চাষি মুইক্য চিং মারমা ও আচমং মারমা জানান, বর্ষা শেষে পানির ব্যবস্থা না করেই চারা দেওয়ায় সেগুলো বাঁচানো যায়নি। রোয়াংছড়ির প্লেদয় পাড়ার খামচিয়াং ম্রো ও মেনপয় ম্রো-ও একই অভিযোগ করেন।

প্রকল্পের মাঠকর্মী অংথুই চিং মারমা স্বীকার করেছেন, তাকে বরাদ্দ ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে মাত্র ১২টি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রকল্প পরিচালক আমাকে এগুলো রাস্তার পাশে অর্থাৎ যেখানে দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে, সেখানে দিতে বলেছেন। লুটপাটের দায় আমার নয়।”

রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা এবং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা জানান, এই প্রকল্পের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি, যা নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা উভয়েই এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা ত্রুটি হয়েছে, সঠিক সময়ে অনেক কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই বরাদ্দের কিছু টাকা ফেরতও পাঠিয়েছি। তবে প্রকল্পটিতে দুর্নীতি ও অর্থ লোপাট হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “নেতিবাচক রিপোর্টের কারণে আসন্ন প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেলে কৃষকদেরই ক্ষতি হবে।”

এদিকে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এম.এম শাহ নেওয়াজ বলেন, “প্রচুর জনবল থাকার পরও কৃষি বিভাগকেই চারা রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয়। পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের জনবল না থাকার পর কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সফলতা আনবে, তা আমার জানা নাই। জনবল ও তদারকি ছাড়া এখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”