
হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চকরিয়ার হারবাং স্টেশনটি ‘অপরিকল্পিতভাবে’ প্রত্যন্ত এলাকায় নির্মাণ করায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চার উপজেলার মানুষ।
সংযোগ সড়ক না থাকায় যাত্রীদের প্রায় তিন কিলোমিটার দুর্গম ও কাঁচা পথ পাড়ি দিয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে হচ্ছে, ফলে চালুর পর থেকেই স্টেশনটি প্রায় যাত্রীশূন্য থাকছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনটি বর্তমান অবস্থান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বরইতলী-মগনামা সড়কের মছনিয়াকাটা অংশে নির্মাণ করা হলে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ সহজেই রেল সেবা পেত। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় স্টেশনটি নির্মাণ করায় এর সুফল মিলছে না।
হারবাং স্টেশনমাস্টার আব্দুস সালাম জানান, স্টেশনে আসা-যাওয়ার ভালো কোনো সড়ক না থাকায় যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াতে আগ্রহী নন। প্রতিদিন দুই জোড়া ট্রেন থামলেও একেকটি ট্রেনে ১০-১২ জনের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন না। এ ছাড়া স্টেশনে শৌচাগার, বিশ্রামাগার বা যানবাহন রাখার স্ট্যান্ডের মতো মৌলিক সুবিধাও নেই।
কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “রেললাইন একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন, তবে স্টেশনগুলো করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। যেখানে যাত্রীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নেই, সেখানে কেন স্টেশন করা হলো, তা রহস্যজনক।”
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, স্টেশন থেকে প্রধান সড়কে যাওয়ার একমাত্র সরু ও কাঁচা রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা থাকায় সেখানে কোনো যানবাহন চলতে চায় না। ফলে ট্রেন থেকে নেমে প্রায়ই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়।
এই সংকট নিরসনে হারবাং স্টেশন থেকে মছনিয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইনের পাশ দিয়ে একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, “নতুন সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হলে যাত্রীরা সহজে স্টেশনে যাতায়াত করতে পারবেন এবং স্টেশনটি ধীরে ধীরে জমজমাট হয়ে উঠবে। আশা করি, রেল কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করবে।”