রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

২৫ কোটির ‘কেলেঙ্কারি’: সাবেক চসিক কর্মকর্তার চার্জশিটগ্রহণ শুনানি সেই ‘আগামী বছর’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:৩১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও আরও তিনজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি পিছিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হাসানুল ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য থাকলেও, আদালত আগামী ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। নগরীর পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোড উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক পিপি মুহম্মদ কবির হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের লাইফলাইন খ্যাত পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোড উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ২৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পদমর্যাদার অপব্যবহার করে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স’ এবং ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স-ছালেহ আহমদ (জেভি)’কে অবৈধভাবে সুবিধা দেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইউসিবিএল ব্যাংকের কুমিল্লা শাখা থেকে যে ঋণ নিয়েছিল, চসিক থেকে পরিশোধিত বিলের অর্থ সরাসরি সেই ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাবে জমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন সেই নিয়ম ভঙ্গ করে ব্যাংকের পরিবর্তে সরাসরি ঠিকাদারের নামে প্রায় ২৫ কোটি টাকার চেক ইস্যু করেন। এই অর্থ পেয়ে ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে যায়, ফলে নগরবাসীকে বছরের পর বছর ভাঙাচোরা রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এই ঘটনায় ২০২২ সালের ১০ মে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রাথমিক চার্জশিট আদালত গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে, তদন্ত কর্মকর্তা মো. বেনজীর আহমদ পুনরায় তদন্ত শেষে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে নতুন করে চার্জশিট দাখিল করেন।

এই চার্জশিটে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ছাড়াও আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, কুমিল্লার ঝাউতলার বাসিন্দা ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাকির হোসেন, ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখার সাবেক এফভিপি অ্যান্ড হেড অব ব্রাঞ্চ মো. সরোয়ার আলম (বর্তমানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের স্পেশাল অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনে কর্মরত) এবং এন আর বি ব্যাংকের এভিপি ও কুমিল্লা শাখার প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল।

দুদকের তদন্তে জানা গেছে, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের দুর্নীতি কেবল এই একটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি ঠিকাদারদের বিল থেকে কেটে নেওয়া প্রায় ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নির্দিষ্ট হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে।

চসিকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করলে কর্তৃপক্ষ তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। দুদকের মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিন না পেয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্তি পান।