
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের একটি শ্রেণিকক্ষ। সাদা বোর্ডে শিক্ষক একটি জটিল ‘হাঞ্জি’ (চীনা অক্ষর) ধাপে ধাপে আঁকছেন। নিবিষ্ট মনে তা অনুসরণ করছেন ইমরান হোসেন। ইমরানের আঙুলগুলোও যেন অদৃশ্য কালিতে আঁকিবুঁকি কাটছে বাতাসে।
ইমরানের এই চেষ্টার পেছনের গল্পটি গতানুগতিক নয়। তিনি কোনো চীনা রোমান্টিক ড্রামা দেখে অনুপ্রাণিত হননি। তার বাবা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের একজন প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারক, যিনি প্রতি বছর চীনের গুয়াংজু ও কুনমিং থেকে ভোগ্যপণ্য ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচামাল আমদানি করেন। ইমরান দেখেছেন, ভাষার দূরত্বের কারণে তার বাবাকে সবসময় একজন মধ্যস্থতাকারী বা দোভাষীর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যবসার লাভ্যাংশ কমিয়ে দেয় এবং ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ায়।
ইমরানের লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি এই ভাষার দেয়াল ভাঙতে চান। তিনি বলেন, “আমার কাছে এটা শুধু একটা ভাষা শিক্ষা নয়, এটা আমাদের পারিবারিক ব্যবসার ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। আমি সরাসরি চীনের সাপ্লায়ারদের সাথে কথা বলতে চাই, নিজের শর্তে দরদাম করতে চাই।” ইমরানের এই একটি বাক্যই যেন বাংলাদেশের, বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানীর তরুণ প্রজন্মের চীনকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক।
ইমরান একা নন। এই আগ্রহের বাতাস পুরো চট্টগ্রামজুড়েই। এর কারণও স্পষ্ট। চট্টগ্রামের তরুণরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখছেন দেশের ‘গেম চেঞ্জার’ প্রকল্পগুলো চীনাদের হাত ধরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাছাড়া, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তৈরি হওয়া ‘কর্ণফুলী টানেল’, আনোয়ারায় ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল’, মিরসরাইয়ের ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ চীনা বিনিয়োগ, কিংবা সিইপিজেড ও কেইপিজেড-এ চীনা কারখানাগুলোর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি— এই সবই তরুণদের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
এই আগ্রহের গভীরতা ঠিক কতটা, তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে খোদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট কর্তৃক ২৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, চীনা ভাষার ‘সার্টিফিকেট’ কোর্সের সব আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও ২৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি ‘অপেক্ষমান তালিকা’ প্রকাশ করতে হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করার পর যে ‘ডিপ্লোমা’ কোর্স করতে হয়, সেই কোর্সের জন্যও আলাদাভাবে ‘অপেক্ষমান তালিকা’ প্রকাশ করা হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে, এই ভাষা শেখার আগ্রহ এখন আর ভাসা-ভাসা পর্যায়ে নেই, তরুণেরা একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কাঠামোগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে কতটা মরিয়া।
এই চাহিদা যে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। সম্প্রতি চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে একটি আনুষ্ঠানিক ‘চীনা ভাষা শিক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্র’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘এইচএসকে’ ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার আয়োজন করা হবে, যা এই সিরিজের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে আলোচিত ‘এইচএসকে-৪’ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরাসরি সহায়তা করবে।
শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ভাষাগত সেতুবন্ধনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীনের ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। সেই সফরেই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের লক্ষ্যে ইমপ্লিমেন্টেশন প্রস্তাবনা স্বাক্ষরিত হয়। এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে, চট্টগ্রামের তরুণদের এই আগ্রহ এখন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কেন এই ‘গ্লোবাল পিভট’?
চট্টগ্রামের এই চিত্রটিই বৃহত্তর এক জাতীয় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। এক প্রজন্ম আগেও যেখানে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’, সেখানে বর্তমান প্রজন্ম তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করেছে।
এর একটি বড় কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর ভিসা জটিলতা এবং ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস-এর জরিপ অনুযায়ী, চীন এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে পছন্দের উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। ২০২৫ সালের ১১ মার্চ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে চীনের জাতীয় ভাবমূর্তি’ শীর্ষক ওই জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা উচ্চশিক্ষার জন্য চীন বেছে নিতে আগ্রহী। ২০২৩ সালে যেখানে ৪৯.১ শতাংশ শিক্ষার্থী চীনে পড়তে আগ্রহী ছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মত পোষণ করেছেন।
এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখন চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শীর্ষ পর্যায় থেকেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সম্প্রতি (৮ মার্চ ২০২৫) প্রীতিলতা হলের এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার জ্ঞান অর্জনে চীনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। যখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান স্বয়ং চীনকে জ্ঞানের গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেন, তা তরুণ প্রজন্মের এই ‘গ্লোবাল পিভট’-কে আরও শক্তিশালী আদর্শিক ভিত্তি দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় বিশ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন, যা এই পরিবর্তনের মাত্রাকেই নির্দেশ করে।
এই যাত্রার প্রধান অনুঘটক হলো শিক্ষাবৃত্তি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চীনের মর্যাদাপূর্ণ সরকারি বৃত্তি ‘চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (সিজিএস)’ পেয়েছেন বাংলাদেশের ৮০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। ১৯৮১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,৫০০ বাংলাদেশি এই বৃত্তি পেয়েছেন। চীনে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসাইন জানান, এই বৃত্তির আওতায় মাসিক যে ভাতা (প্রায় ৬০ হাজার টাকা) পাওয়া যায়, তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ (প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা) মিটিয়েও অর্ধেক টাকা বেঁচে যায়। অর্থাৎ, এটি প্রায় বিনামূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ।

পর্দার আকর্ষণ থেকে সিআরবি-র সবুজ
যদি অর্থনৈতিক সুযোগ হয় ‘প্রয়োজন’, তবে সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হলো ‘ভালো লাগা’। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীনা ভাষা শেখার আগ্রহের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে চীনের আধুনিক ‘সফট পাওয়ার’, বিশেষ করে পপ-কালচার। ‘লাভ ওটুও’ বা ‘দ্য আনটেমড’-এর মতো চীনা ড্রামা সিরিজ (সি-ড্রামা) বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অবিশ্বাস্য রকমের জনপ্রিয়।
তবে এই আকর্ষণ শুধু পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট ‘উশু’ এবং স্বাস্থ্যকর ব্যায়াম ‘তাই চি’ চট্টগ্রামের তরুণদের মধ্যেও দারুণ জনপ্রিয়। চট্টগ্রামের সিআরবি বা জাম্বুরি পার্কের মতো স্থানগুলোতে ভোরে ‘তাই চি’ অনুশীলনকারীদের দেখাও এখন পরিচিত দৃশ্য। এটি দুই দেশের প্রাচীন প্রজ্ঞার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে বাড়িয়ে তুলছে।
মেজবানি মাংস, ভাঙা বাংলা আর ‘এইচএসকে-৪’
এই সাংস্কৃতিক বিনিময় একমুখী নয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল, সিইপিজেড বা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে কাজ করতে এসে অনেক চীনা প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক বাংলা ভাষা শেখার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। চীনা নাগরিক ওয়াং পেই, যিনি চট্টগ্রামের সিইপিজেড-এ একটি সোর্সিং অফিসে কর্মরত, জানান, “আমি এখন ভাঙা ভাঙা বাংলাতেই দরদাম করতে পারি। চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস আর শুঁটকি মাছ আমার খুব পছন্দ। সংস্কৃতি বুঝতে পারলে বন্ধুত্ব এবং ব্যবসা—দুটোই সহজ হয়।” এই পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেষ্টাই সম্পর্কটিকে টেকসই করছে।
তবে এই পথচলা সবসময় মসৃণ নয়। বাংলা ভাষার বিপরীতে মান্দারিন একটি ‘টোনাল’ ভাষা, যেখানে একটি শব্দের সুর পরিবর্তন হলেই তার অর্থ বদলে যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়িমা খানম বলেন, “প্রথম ছয় মাস শুধু চারটি ‘টোন’ আয়ত্ত করতেই চলে যায়। এটি ধৈর্যের এক চরম পরীক্ষা।”
এর চেয়েও বড় প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ হলো ‘এইচএসকে’ বা চীনা ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা। চীনা সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে যারা চীনা মাধ্যমে পড়াশোনা করেন, তাদের জন্য ন্যূনতম ‘এইচএসকে লেভেল ৪’ পাস করা বাধ্যতামূলক। তবে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান গ্র্যাজুয়েশনের আগে এই দক্ষতা অর্জনকে উৎসাহিত করে বা শর্ত হিসেবে রাখে। এই লেভেল পাস না করলে একজন শিক্ষার্থীকে তার মূল ডিগ্রির সার্টিফিকেট প্রদান বিলম্বিত হতে পারে বা নাও হতে পারে।
সাফল্যের গল্প
চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যারা এই ভাষা আয়ত্ত করছেন, তারা পাচ্ছেনও অনেক। সাফল্যের গল্পটি আবুল কালামের। কালাম বলেন, “কর্ণফুলী টানেলের কাজ চলার সময় চীনা প্রকৌশলী এবং স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে আমি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছি। ভাষা জানার কারণে আমি প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো যেমন দ্রুত বুঝতে পারি, তেমনি সাংস্কৃতিক পার্থক্যগুলোও সহজে সমাধান করতে পারি। এটা আমাকে পেশাগতভাবে অনন্য একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে।”
আবার, ফাতেমা আক্তারের গল্পটি একটু ভিন্ন। ভাষা শিখে তিনি একটি চীনা টেক কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানকার তীব্র কাজের চাপ বা ‘৯৯৬’ (সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, সপ্তাহে ৬ দিন) সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফাতেমা এখন নিজেই একটি পরামর্শক সংস্থা খুলেছেন। তিনি বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চীনের সাথে বাণিজ্য করতে সাহায্য করেন এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজার বুঝতে সাংস্কৃতিক গাইড হিসেবে কাজ করেন। সাবেক শিক্ষার্থী আরিফুর রহমানের কথায়, “চীনে পড়াশোনা করে কেউ যদি চীনা ভাষাটা শিখতে পারে, তাহলে তাকে চাকরির জন্য একদিনও বসে থাকা লাগে না। আমি যেদিন ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তার পরেরদিনই একটা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হই।”
ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন
বাংলাদেশে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ কোনো সাময়িক ফ্যাশন নয়। এটি একটি গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ধারার প্রতিফলন। এই হাজার হাজার তরুণ-তরুণী, যারা আজ শ্রেণিকক্ষে বসে ‘হাঞ্জি’ শিখছেন, তারাই আগামী দশকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবেন।
তারা শুধু দোভাষী বা কর্মচারী নন, তারা একেকজন ‘সাংস্কৃতিক দূত’। রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে এই তরুণরাই দুই প্রাচীন সভ্যতার মানুষের মধ্যে ‘পিপল-টু-পিপল’ বা জনমানুষের সংযোগ স্থাপন করছেন। এই ধারারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্ট্রাক্টর আয়েশা ফারলীন। সম্প্রতি (২১ জুলাই ২০২৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে তিনি চীনা প্রতিনিধি দলের বক্তব্যের বাংলা অনুবাদক হিসেবে কাজ করেন। এটিই প্রমাণ করে, আজকের ভাষা শিক্ষার এই কেন্দ্রগুলোই আগামী দিনের কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের মূল ‘সেতু’ হয়ে উঠছে।
চীন যে ‘গোল্ডেন সিল্ক রোড’ বা সোনালি রেশম পথের পুনর্জাগরণের কথা বলছে, তার ভিত্তি শুধু ইট, কংক্রিট বা ইস্পাত নয়। এর আসল ভিত্তি হলো এই মানবিক সংযোগ। বাংলাদেশের এই নতুন প্রজন্মই সেই সোনালি পথের মানবিক মুখ, যারা ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বকে নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন উচ্চতায়।
আগামীকাল পড়ুন : চীনের বাজারে ঢুকতে বাধা কি শুল্ক, নাকি সাংস্কৃতিক?