শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় বিএনপি : জামায়াত নেতা শাহজাহান

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ৪:১৫ অপরাহ্ন


জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক আদেশ দিয়ে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি গণভোটে ভয় পাচ্ছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধা দিয়ে “কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার দুঃস্বপ্ন দেখছে”।

বুধবার (১২ নভেম্বর) নগরীর রোজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালীর শহরে অবস্থানরত জনশক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ধারায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, বিএনপি তা ধ্বংস করে দিয়েছে। জুলাই সনদকে আইনগত ভিত্তি না দিয়ে তারা যেনতেন ভাবে একটি নির্বাচন দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। গণভোট তো কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চায় না। গণভোট দিয়ে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং অন্তবর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তা প্রতিহত করতে হবে।” তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডাঃ আবু নাছেরকে “যোগ্য, জনবান্ধব নেতা এবং পরিশ্রমী মানবিক চিকিৎসক” হিসেবে উল্লেখ করে তাকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

উপজেলা আমীর ডা: খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি প্রার্থী মানবিক চিকিৎসক ডা: আবু নাছের। বোয়ালখালী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক, মহানগরী আমীর পরিবেশ বিজ্ঞানী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী ও অধ্যাপক শওকত ওসমান চৌধুরী।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরিফুর রশীদ, বোয়ালখালী পৌরসভা আমীর হারুনুর রশিদ, চান্দগাঁও থানা সেক্রেটারি জসিম উদ্দীন সরকার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ওমর গণি, বাকলিয়া ১৭ নং ওয়ার্ডের নায়েবে আমীর আহমদুল হক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, বোয়ালখালীর বিশিষ্ট ব্যক্তি নুরুল কবির, আরিফুল হক টিপু, মাওলানা স.ম. মুছা এবং অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রমুখ উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি প্রার্থী ডাঃ আবু নাছের বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদের বিদায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে। তাই আগামীতেও ফ্যাসিবাদ নির্মূলে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সকল মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিজেকে উৎসর্গ করছি। কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নে সব মহলের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।”

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “ডা: আবু নাছের চট্টগ্রাম-৮ আসনের সবচেয়ে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা। দেশব্যাপী ইসলামের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাতিলের কোনো ষড়যন্ত্র তোয়াক্কা না করে দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি জাফর সাদেক বলেন, “দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মাধ্যমে দখলবাজ ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। জিয়াউর রহমান গণভোট দিয়েছিলেন বিপ্লবের বৈধতার জন্য। কিন্তু বিএনপি আজ গণভোটকে ভয় পায়। বিএনপির উচিত গণভোটের পক্ষে ভূমিকা রাখা।”

বিশেষ অতিথি জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে বোয়ালখালীর শহীদ ওমর শাহাদাৎ বরণ করেন। শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে ডাঃ আবু নাছের এর দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে।”

শিবিরের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, “জুলাই শহীদ ওমর ও শিবিরের দুই শহীদের রক্তস্নাত বোয়ালখালীর ময়দান আজ কথা বলছে। ইনশাআল্লাহ বিজয়ের মাধ্যমে তাদের রক্তের মূল্য আদায় হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ডা. খোরশেদ আলম বলেন, “নির্বাচন হলো এখন প্রধান কাজ। ব্যস্ততার মাঝেও নির্বাচনের জন্য সময় দিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে আপনাদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করছি।”