
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পিএবি (পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী) সড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি কালভার্টের মুখ আটকে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও কৃষি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ পেয়ে এরই মধ্যে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার কালাবিবির দিঘীর মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ওই কালভার্টটির মুখে ভবনটি নির্মাণ করছিলেন মো. আরিফ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।
স্থানীয়রা জানান, এলাকা ও কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে সওজ কালভার্টটি নির্মাণ করেছিল। এটি পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম। এখন এর মুখে স্থাপনা তৈরি হলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বর্ষায় বা অতিবৃষ্টিতে এলাকার ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার বলেন, কালভার্টের মুখে স্থাপনা হলে জলাবদ্ধতায় কৃষি জমির উর্বরতা কমে যাবে এবং ফসল নষ্ট হবে। এতে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তবে ভবন নির্মাণকারী মো. আরিফ দাবি করেছেন, জায়গাটি তার দলিলভুক্ত। তিনি বলেন, আগের ইউএনও তাকে ছয় ফুট জায়গা রেখে কাজ করতে বলেছিলেন। এছাড়া সওজের সার্ভেয়ার এসে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আরিফ জানান, ভবনের পূর্ব পাশ দিয়ে পানি প্রবাহের জন্য তিনি ছয় ফুট জায়গা ফাঁকা রেখেছেন। বর্তমান ইউএনও তাকে ডেকেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের বারের মতো এবারও অনুমতি নিয়ে কাজ করবেন।
তবে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পটিয়া সওজের সার্ভেয়ার সুবাস চাকমা। তিনি বলেন, কালভার্টের পাশের জায়গাটি অধিগ্রহণ হওয়ার কথা। কাউকে কোনো সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। কালভার্টের মুখে ভবন নির্মাণের প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানাবেন বলে জানান তিনি।
আনোয়ারা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলা পরিষদ থেকে এ ধরনের কোনো ভবনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।