
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। একইসঙ্গে লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বুধবার সকাল ১০টায় বন্দরের প্রবেশপথের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর নেতারা। নগরীর মাইলের মাথা (সী মেন্স হোস্টেল), টোল রোডের টোলপ্লাজা গেট এবং বড়পোল এলাকায় একযোগে এ অবরোধ চলে।
বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা ‘মা মাটি মোহনা, বিদেশিদের দেব না’, ‘এক হও লড়াই কর, দুনিয়ার মজদুর’—এমন নানা স্লোগান দেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
সমাবেশে স্কপ নেতারা বলেন, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা দেওয়ার দিন বিডার প্রধান নির্বাহী আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, এনসিটি চুক্তি সাত দিনের মধ্যে হবে। এই বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত চুক্তি করার নৈতিক কিংবা আইনি অধিকার নেই। সরকারের কাজ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করা নয়।
এনসিটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা উল্লেখ করে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, জীবন থাকতে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ অবরোধ করা হচ্ছে, প্রয়োজনে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন বলেন, শ্রমিকরা চাইলেই বন্দর অচল করে দিতে পারেন। কিন্তু তারা সময় দিচ্ছেন। বিদেশিদের টার্মিনাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় তারা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
শ্রমিক নেতা খোরশেদ আলম বলেন, এনসিটি বন্দরের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। কোনো রাষ্ট্র তার লাভজনক স্থাপনা ইজারা দেয় না। এনসিটি ইজারার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ বিক্রির চক্রান্ত রুখে দিতে প্রয়োজনে শ্রমিকরা জীবন দিতে প্রস্তুত।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মাইলের মাথা, টোলপ্লাজা ও বড়পোল এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।