
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী সেতুসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চার ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’–এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার সকালে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতু এলাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সেতু এলাকায় অবস্থান নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ইমরুল ইসলাম শাহরিয়ার নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরমুখী গাড়ি, পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবাসহ জরুরি সরকারি যানবাহন অবরোধের আওতার বাইরে রাখা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চকরিয়া উপজেলার সাবেক অন্যতম সমন্বয়ক সায়েদ হাসান বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবান অঞ্চলের কোটি মানুষের যোগাযোগের প্রধান পথ এই মহাসড়ক। এটি মাত্র দুই লেনের হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। তাই মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেন করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, সকালে মাতামুহুরী সেতু এলাকার অবরোধ পরিস্থিতি পরিদর্শন করে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি জানিয়ে অবরোধ শিথিল করার অনুরোধ জানানো হয়। ছয় লেনে মহাসড়ক উন্নীতকরণ সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের দাবি সরকারের কাছে জানানো হবে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণ এবং সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হোক—এটা প্রশাসনও চায়।
এ সময় ইউএনও মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের বিষয়ে জাইকার বিভিন্ন সমীক্ষা এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের লিখিত পরিকল্পনার কথা আন্দোলনকারীদের পড়ে শোনান।
এরপর দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাতামুহুরী সেতু এলাকা থেকে সরে যান আন্দোলনকারীরা। এরপর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন জানান, ছয় লেনের দাবিতে সড়ক অবরোধ চলায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
জানা গেছে, চকরিয়া ছাড়াও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, দোহাজারী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামুতে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।