
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কয়েক দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব ভবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি আগে ইউনিয়নভুক্ত থাকায় ভবন নির্মাণে কোনো বিধিমালা মানা হতো না। এখনো অনেকে রাজমিস্ত্রির পরামর্শে শক্ত ভিত্তি ছাড়াই পুরনো একতলা বা দোতলা ভবনের ওপর অতিরিক্ত তলা যোগ করছেন। এতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগ উঠেছে, নাজিরহাট বাজারের আহমদিয়া মাদ্রাসার সামনে দিদারুল আলম নামের এক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভবন সম্প্রসারণ করছেন। ২০০৭ সালে তিনি সেখানে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন, যা ২০১৪ সালে দোতলায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে সেটিকে পাঁচ তলায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
এ ঘটনায় ভবন ধসের আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক আব্দুল হালিম পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির পাঁচ তলায় শ্রমিকরা কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ভবনটির অনুমোদন নেই এবং নিচের ভিত্তিও মজবুত নয় বলে তারা শুনেছেন। পৌরসভার লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তাই ঝুঁকি জেনেও তারা ঠিকাদারের নির্দেশে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. আসাদুল করিম বলেন, ইদানীং এখানে অসংখ্য অপরিকল্পিত ভবন উঠছে, যেখানে ইমারত বিধি মানা হচ্ছে না। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে ভবন মালিক মো. দিদারুল আলম দাবি করেন, তিনি পৌরসভা থেকে চারতলার অনুমোদন নিয়েছেন এবং নকশা মেনেই কাজ করছেন। তবে অনুমোদনের কোনো কাগজ বা নকশা তিনি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার নকশাকার মুহাম্মদ আবু বক্কর রেজা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর নকশা বহির্ভূত ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনটি পুরনো এবং অপরিকল্পিত। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। নকশা বহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রাতের আঁধারে চলা কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি পৌরসভার কোনো কর্মী এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।