
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা কেবল ৮ দলের বিজয় চান না, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। কুরআনের মাধ্যমেই সেই আকাঙ্ক্ষিত বিজয় আসবে। চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে এবং আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। দুপুর পৌনে ২টায় মূল কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা নিজেদের উন্নয়ন করেছিল। রাস্তাঘাট তৈরি করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে। বাংলাদেশের টাকা লুট করে সিঙ্গাপুরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তারা গায়ে রঙ মেখে শুয়ে ছিল। তারা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল এবং রক্তাক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলায়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, গাড়ি দিয়ে পালানোর সাহসও তারা হারিয়ে ফেলেছিল। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিকে অপকর্মে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। দেশের সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদকে আর নতুন করে রুখে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।
৫ আগস্টের বিপ্লবের পর চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিপ্লবের পরদিন থেকেই একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এই ঐক্য তাদের জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ গরিব-দুঃখী ও মেহনতি মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। অনেক দল থেকে আসন সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারা বাংলাদেশের অধিকার ও মালিকানা কায়েম করতে চান। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, সকল চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনতার বিজয় হবে। দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ব্রিটিশরা চলে গেলেও মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বৈষম্য দূর হয়নি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা শাসক ছিল, তারাও বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তাই ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজারো জীবনের বিনিময়েও মানুষ মুক্তি পায়নি। আগামীতে আবারও চাঁদাবাজ ও জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ দশ তলায় আর কেউ নিচতলায় থাকবে না।
৮ দলের নেতাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাগপার সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন সমাবেশে বক্তব্য দেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।