
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই চট্টগ্রামের পটিয়ায় শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার উৎসব। উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন নবান্ন উৎসবের আমেজ। চলতি সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই করে গোলায় তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বিগত বছরের তুলনায় এবার পটিয়া উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। পটিয়া উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৭৮২ হেক্টর জমি, যার বিপরীতে ১০ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত ও বিরূপ আবহাওয়া সহনশীল জাতের ব্রি-ধান ৫২, ৮১ ও ১০৩ জাতের আবাদ হয়েছে ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া উফশী জাতের বিআর-২২, ২৩, ১১, ভারতীয় পাইজাম, দিনাজপুরি পাইজাম, ব্রি-ধান-৩২, ৪৯ এবং স্থানীয় জাতের রাজকুমার বেতি, সাহেব-চিকন, কালিজিরা, কুমড়া বৈলাম ও তিলক কাচারি ধানেরও বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলার কচুয়াই, খরনা, কেলিশহর, ভাটিখাইন, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, ধলঘাট ও হাইদগাঁও ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় মাঠজুড়ে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। ধান কাটা শেষ হওয়া জমিগুলোতে ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন অনেকে।
খরনা ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশন এলাকার চাষি আবদুল জব্বার জানান, তিনি ২০০ শতক জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলন হয়েছে এবং তিনি খরচ পুষিয়ে লাভের আশা করছেন। বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার ভালো দাম পাওয়ার আশায় স্বস্তিতে আছেন কৃষকরা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল হক জানান, স্বল্পমেয়াদী জাতের ধান কাটা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ব্রি-৫২, ৮১ ও ১০৩ জাতের ধানের মেয়াদ ১৫০-১৫৫ দিন হওয়ায় সেগুলো কাটতে আরও সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে নিচু জমিতে জোয়ারের পানির কারণে এসব ধান কাটতে কিছুটা দেরি হয়।
ব্রি-ধান ৫২ জাতের চাষ করা কৃষক আবদুল আলিম ও আবদুস শুক্কুর জানান, বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) আর্থিক সহযোগিতায় তারা এবার বিরূপ আবহাওয়া প্রতিরোধক এই ধান চাষ করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউসিবিএল ব্যাংকের পটিয়া শাখার ব্যবস্থাপক রিজওয়ানুর রহমান বলেন, অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আনতে এবং উন্নত জাতের ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে তারা প্রথমবারের মতো কৃষিতে বিনিয়োগ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, সুষম সারের ব্যবহার এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকিতে এবার আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে এবং নতুন নতুন কৃষক এতে যুক্ত হচ্ছেন। কৃষকদের সহায়তায় একটি বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।