
স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহ ধরে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নবজাতক ও শিশুদের নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকরা।
রোববার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, টিকা দিতে না পেরে অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলার খরনা ইউনিয়ন থেকে নবজাতকের টিকা নিতে আসা শারমীন আক্তার বলেন, বাচ্চার জন্মের পর প্রথম টিকা নিতে এসে চার দিন আগেও তিনি ফেরত গেছেন। রোববার সকালে এসেও টিকা দিতে পারেননি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আন্দোলনের নাম দিয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জিম্মি করা কোনো সরকারি কর্মচারীর কাজ হতে পারে না।” শারমীন আক্তারের মতো আরও অনেক অভিভাবককে টিকা কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ৫১ জন স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছেন। রুটিন অনুযায়ী সপ্তাহে তিন জন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গত সপ্তাহে সাজ্জাদ হোসেন, ওসমান গনি ও সিবাস দে-এর দায়িত্ব থাকলেও আন্দোলনের কারণে তারা কেউ কাজে যোগ দেননি।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের দাবিকৃত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। এ কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে তারা কাজে যোগ দিলে এই অচলাবস্থা কেটে যাবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন পটিয়া শাখার সভাপতি সুকান্ত নাথ বলেন, “কেন্দ্রীয়ভাবে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত এলেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পুনরায় টিকা কার্যক্রম চালু হবে। সাময়িক এই বিরতিতে টিকা গ্রহণকারীদের বড় কোনো সমস্যা হবে না।”