রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

আবেদনের দোহাই দিয়ে চলছে ‘হাসপাতাল’, নেই ডাক্তার-নার্স

আনোয়ারায় ভুয়া চিকিৎসাসেবার ফাঁদে রোগীরা, প্রশাসনের অভিযান
জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৫১ অপরাহ্ন


সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘মেটারনিটি’ বা মা ও শিশু হাসপাতাল। অথচ ভেতরে নেই প্রসূতি মায়ের সেবা দেওয়ার মতো কোনো ডাক্তার, নেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিংবা আধুনিক সরঞ্জাম। এমনকি নার্স বা ডিউটি ডাক্তার ছাড়াই শুধুমাত্র অনুমোদনের জন্য আবেদনের কপি সম্বল করে দিব্যি চলছে চিকিৎসাসেবার নামে এই রমরমা বাণিজ্য।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর এই করুণ চিত্র জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। অবশেষে এই অনিয়মের লাগাম টানতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দীন চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই অভিযানটি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আনোয়ারা প্রিমিয়ার মেটারনিটি হাসপাতাল নামক প্রতিষ্ঠানটিতে সেবার মানের বালাই নেই। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও সরঞ্জামের চরম সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

অন্যদিকে, জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায় প্রশাসন। সেখানে নূন্যতম মান বজায় না রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালকে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালু না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব নামসর্বস্ব হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন, যাতে অসহায় রোগীরা আর প্রতারিত না হন।

স্বাস্থ্যখাতের এই নৈরাজ্য প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।