
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে। পুরোনো ১১টি সেতুতে নতুন করে ‘পন্টেজ চার্জ’ আরোপ করায় এই ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিভিন্ন গন্তব্যে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের।
নতুন নিয়মে ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সব সেতুতে (নতুন ও পুরোনো) প্রতি কিলোমিটারকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে কাগজ-কলমে রেলপথের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় ভাড়ার ওপর এই প্রভাব পড়ছে।
রেলওয়ে জানায়, এই নিয়ম কার্যকরের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের রেলপথে দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮১ কিলোমিটারে। যদিও দুই শহরের প্রকৃত দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার।
নতুন ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ারে ৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণিতে ৬৪, এসিতে ৮০, কেবিনে ৯৮ এবং এসি কেবিনে ১৪৩ টাকা ভাড়া বাড়বে। একই রুটে বিরতিহীন ট্রেনের ক্ষেত্রে শোভন চেয়ারে ৪৯, প্রথম শ্রেণিতে ৬৯, এসিতে ৮৮, কেবিনে ১০৮ এবং এসি কেবিনে ১৫৯ টাকা ভাড়া বাড়ছে। এছাড়া মেইল ট্রেনে ১৫ টাকা ও কমিউটার ট্রেনে ২০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি পাবে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে। এই রুটে দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার বেড়ে ৫৮৬ কিলোমিটার হিসাব করা হচ্ছে। ফলে এই রুটে শোভন চেয়ারে ৬০ টাকা, প্রথম শ্রেণিতে ৯২, এসিতে ১১৫, কেবিনে ১৩৮ এবং এসি কেবিনে ২১৪ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ছে। বিরতিহীন ট্রেনে এসি কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ হাজার ৬৪৪ টাকা।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের ভাড়াও আনুপাতিক হারে বাড়বে। ঢাকা-সিলেট রুটে এসি কেবিনের ভাড়া বাড়বে ১২৭ টাকা পর্যন্ত।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, নতুন সেতু নির্মাণ এবং পুরোনো সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলে আনতে এই পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর রেলে আর ভাড়া বাড়ানো হয়নি, অথচ গত ৯ বছরে পূর্বাঞ্চলে অনেকগুলো নতুন সেতু নির্মিত হয়েছে।