
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) কেনা জায়গায় গ্রাম সমিতির অফিস নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অথচ ওই ইউপি সদস্য ও তার বোন মিলে কয়েকমাস আগেই সংস্থাটির কাছে ওই জমি বিক্রি করেছিলেন।
অভিযুক্ত ঝিনু আক্তার আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা।
এসডিএফ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করে।
এসডিএফের ১ নম্বর আনোয়ারা ক্লাস্টার অফিসের ক্লাস্টার অফিসার মো. শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, ডুমুরিয়া এলাকায় ‘পূর্ব আনোয়ারা গ্রাম সমিতি’র অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ইউপি সদস্য ঝিনু আক্তার ও তার বোন রিনা আক্তারের কাছ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিন শতক জমি কেনা হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ঝিনু মেম্বার ওই জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখেন।
শামীম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ঝিনু মেম্বার দায়সারা কথাবার্তা বলেন এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। তার বাড়িতে গেলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন এবং ফোন ধরেন না। জনপ্রতিনিধির এমন চাতুরির কারণে গ্রামের দরিদ্র মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পূর্ব আনোয়ারা গ্রাম সমিতির সোশ্যাল অডিট কমিটির আহ্বায়ক বিউটি শীল ও ভিলেজ ক্রেডিট অর্গানাইজেশনের (ভিসিও) সেক্রেটারি লিপি বিশ্বাস অভিযোগ করেন, এসডিএফের মাধ্যমে গ্রামের হতদরিদ্র নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঝিনু মেম্বার জমি বিক্রি করেও এখন অফিস করতে দিচ্ছেন না। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত টাকা বা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তিনি এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য ঝিনু আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসডিএফের কাছে জমি বিক্রির কথা স্বীকার করেন। ভবন নির্মাণে তার কোনো আপত্তি নেই দাবি করলেও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে তার বোন রিনা আক্তারের স্বামী মো. টিপু বলেন, তারা জমি বিক্রি করেছেন সত্য। তবে বর্তমান জটিলতা নিয়ে তিনি ঝিনু মেম্বারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি তাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।