
মানবাধিকার কেবল আইনের পাতায় লেখা শব্দ নয়, এটি প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার শর্ত— এমন বার্তা নিয়ে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কলকাতার শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে অনুষ্ঠিত হলো নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে পথসভা।
পিপলস ভয়েস, পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টি (পিইউসিএল) এবং পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক নাগরিক মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক সম্মান এবং প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পিইউসিএল পশ্চিমবঙ্গের সংযোজক অম্লান ভট্টাচার্য বলেন, “মানবাধিকার কোনো আলাদা বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। প্রশ্ন করা বা মত প্রকাশ করা অপরাধ হতে পারে না। নাগরিকের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পরিসর সংকুচিত হলে সমাজের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।”
পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক নাগরিক মঞ্চের সংযোজক ও ‘উই আর দ্য কমন পিপল’-এর সেক্রেটারি শুভজিৎ দত্তগুপ্ত বলেন, “খাদ্য, কাজ, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা না পেলে অধিকার শব্দটির অর্থ থাকে না। নাগরিকদের দাবি তুলতেই হবে, কারণ নীরবতা কখনো পরিবর্তন আনে না।”
পিপলস ভয়েস-এর পক্ষ থেকে অধ্যাপক তরুণ সমাদ্দার বলেন, সংস্কৃতি মানুষের প্রতিরোধের ভাষা। আদালতের লড়াইয়ের পাশাপাশি কবিতা, গান ও নাটকও মানবাধিকার রক্ষায় শক্তিশালী অস্ত্র।
সভায় দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির প্রতিনিধি রমা দেবনাথ প্রান্তিক নারীদের অধিকারের কথা তুলে ধরে বলেন, “যৌনকর্মীদের অধিকারের কথা বললেই এখনও কটূক্তি শুনতে হয়। অথচ তারা নাগরিক, তাদের জীবন-সমস্যা ও অধিকার দুটোই বাস্তব।”
বিশিষ্ট লেখক আকাশ পাইন বলেন, যে সমাজে মানুষ অবহেলিত হয়, সেখানে কলম নীরব থাকতে পারে না। সাংবাদিক অপূর্ব দাস বলেন, মানুষ জানার অধিকার হারালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও হারায়। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মানবাধিকারেরই অংশ।
উত্তর কলকাতা নেতাজি জন্মউৎসব উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে কাশীনাথ রায় বলেন, নেতাজির আদর্শ আমাদের শেখায় দমনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়াই নাগরিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সায়ন্তিকা বসুর কবিতা পাঠ এবং পিপলস ভয়েস-এর সমর্থকদের পরিবেশিত সঙ্গীত সন্ধ্যার আবহকে প্রতিবাদ ও মানবতার সুরে রাঙিয়ে তোলে। আয়োজকরা জানান, মানবাধিকার রক্ষার দাবি একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিদিনের সংগ্রাম।