শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অভিযোগের পাহাড় পটিয়া হাসপাতালে, গণশুনানিতে ক্ষোভ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬:০৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে করাতে গিয়ে ফেরত আসা, ভর্তি রোগীদের খাবার দিতে টাকা দাবি করা এবং নার্সদের দায়িত্ব পালনের বদলে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পটিয়ার প্রায় ৯ লাখ মানুষের ভরসাস্থল ৫০ শয্যার এই একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি নিয়ে দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল চত্বরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যৌথ উদ্যোগে সেবার মানোন্নয়নে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগী আশরাফ আলী অভিযোগ করেন, তিনি এক্সরে করাতে এসে নানা অজুহাতে ফেরত গেছেন। এছাড়া তার বাচ্চাকে ভর্তি করানোর পর খাবার নিতে গেলে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন সেবা নিতে আসা আরেক রোগী সাজু আকতার। তিনি জানান, হাসপাতালে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা টয়লেট না থাকায় তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সানজিদা আকতার অভিযোগ করে বলেন, নার্সরা বেশিরভাগ সময় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, রোগীর দিকে নজর দেন না। এছাড়া বহিঃবিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ করেন বেলাল হোসেন।

রোগীদের এসব অভিযোগের জবাবে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। রোগীর তুলনায় স্টাফ সংখ্যা অপ্রতুল। এক্সরে মেশিনে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, যা এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে, তাতে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি সেবার মান বাড়াতে চিকিৎসক ও স্টাফদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবদুর রাজ্জাক, সনাকের সাবেক সভাপতি অজিত কুমার মিত্র ও সিলা দাশ।