শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কিছু দল এখনো ফ্যাসিবাদী কালচার ছাড়তে পারেনি: শিবির সভাপতি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬:২৭ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল এখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি বা ‘কালচার’ ছাড়তে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যারা সন্ত্রাস করে, পাথর মেরে মানুষ হত্যা করে, মনোনয়ন না পেয়ে নিজেদের কর্মীকে হত্যা করে এবং চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-লুটপাট করে—আমরা সবসময় তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও ভূজপুর উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফটিকছড়িতে আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে আমাদের বহু ভাই রক্ত দিয়েছেন, আমরা তা ভুলিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই ৫ আগস্ট বা ‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের নতুন স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে। আবাবিলের ঝাঁকের মতো আমাদের ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমে জীবন দিয়েছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, শেখ মুজিব গণতন্ত্রের কথা বললেও পরে বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং রক্ষীবাহিনী দিয়ে বিরোধীদের দমন করেছিলেন। তার লুটপাটতন্ত্রের কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আর শেখ হাসিনার আমলে সেনা অফিসার, আলেম-ওলামাসহ বহু মানুষ হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, সমাজের কিছু কুলাঙ্গার নেতৃত্ব এবং পার্শ্ববর্তী দেশের আধিপত্যবাদী শক্তি মিলে বাংলাদেশের যুবসমাজকে মাদক দিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের কারখানা বসানো হয়েছে। যারা আগামীতে নেতৃত্বে আসবেন, তাদের অবশ্যই মাদকবিরোধী কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়াও করেন জাহিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি নির্বাচিত হলে ফটিকছড়িতে ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে দুটি আধুনিক স্টেডিয়াম, ফায়ার স্টেশন, হাসপাতাল নির্মাণ, এক হাজার কিলোমিটার সড়ক ও সেতু উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণ এবং কৃষিপণ্যের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন সামনে এসেছে। জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, দক্ষিণের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলি, উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শওকত আলী এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার।

উত্তর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি এজাহারুল ইসলাম ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউসূফ বিন সিরাজের যৌথ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমির নাজিম উদ্দিন ইমু, ভূজপুর শাখার আমির অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আমির মাস্টার নাজিম উদ্দিন সিকদার, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ইমদাদুল গনি, অ্যাডভোকেট আলমগীর মুহাম্মদ ইউনূস, আব্দুর রহিম, রেজাউল করিম ও সাইরান কাদের।

এ সময় ছাত্রশিবির সভাপতি নাঈম উদ্দিন আমিরী, শ্রমিক নেতা গাজী বেলাল উদ্দিন ও যুব নেতা নবীর হোসেন মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।