
সাংবাদিকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তিনি প্রতিবেদক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা পাঠান।
এর আগে বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে একুশে পত্রিকায় ‘মনোনয়ন পেয়েই ‘বট’ নিয়ে সরব এনসিপি নেতা, সাংবাদিককে বললেন ‘ক্লাস করতে’…’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে প্রতিবেদক বেলাল উদ্দিনের হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠান মীর আরশাদুল হক। বার্তায় তিনি লিখেন, “ভাই কিছু মনে করবেন না। রাগ করবেন না প্লিজ। নিউজটি ভালো হয়েছে। আমি আমার আচরণের জন্য আপনার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এনসিপি নেতার এই দুঃখ প্রকাশের বিষয়টিকে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমরা গত ১৭ বছরে দেখেছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা দেওয়া হতো, হামলা হতো। তখন ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বলতে কিছু ছিল না। কাজেই আরশাদ ভাইয়ের দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি মহানুভবতার পরিচয় বহন করে। এটি নতুন বাংলাদেশে বড় প্রাপ্তি।”
যা ছিল আগের ঘটনায়
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এনসিপির মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই ফেসবুকে একটি রহস্যজনক স্ট্যাটাস দেন মীর আরশাদুল হক। তিনি লিখেন, ‘এনসিপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, কিন্তু বটের আক্রমণ থেকে মুক্তি দেয় নি! দেখা যাক, কী হয়…।’
এই স্ট্যাটাস এবং ‘বট’ শব্দের ব্যাখ্যা জানতে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন একুশে পত্রিকার প্রতিবেদক। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তিনি বলেন, “এই নিউজ করার জন্য কি আপনাকে অফিস থেকে অ্যাসাইনমেন্ট হয়েছে? আমিও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়েছি। আপনাদের আরও ক্লাস করতে হবে। ভালো হয়ে যান বেলাল ভাই।”
‘বট বাহিনী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি তখন বলেছিলেন, “আপনি গুগলে সার্চ করুন, ওখানেই পেয়ে যাবেন।”
তবে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করায় বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।