শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি, সে অনন্তকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে: ড. ইউনূস

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শরিফ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন, দাফন কবি নজরুলের পাশে
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:০৬ অপরাহ্ন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার আগে এক আবেগঘন বক্তৃতায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রিয় হাদি, তোমাকে বিদায় দিতে আসিনি। তুমি অনন্তকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে। তোমাকে কেউ ভুলে যাবে না।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমগণ। এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা জানাজাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১২টার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজাপূর্ব বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, আজ তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি যে মন্ত্র রেখে গেছো, সেটাকে ধারণ করে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লড়াই চালিয়ে যাব। তোমার দেখানো পথে সবাই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। কেউ তোমাকে ভুলবে না, বরং তোমার মন্ত্র বয়ে নিয়ে যাবে।

জানাজা শেষে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আব্দুল আহাদ জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হয়।

হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও বিশেষ টহলে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।