
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেছেন, কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান ছাড়া সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়। তিনি দ্বীনি শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি একে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুটিবিলা হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্য দক্ষিণ চট্টগ্রামকে জ্ঞানী ও গুণী মানুষ তৈরির উর্বর ভূমি হিসেবে অভিহিত করেন।
ড. মো. শামছুল আলম বলেন, “আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি তাদের, যারা এই মাদ্রাসার জন্য জমি, শ্রম ও মেধা দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। আজকের যুগে এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়, যারা প্রতিষ্ঠানের জন্য দামি জমি ছেড়ে দেবেন কিংবা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দেবেন। আগের মানুষগুলো ভালো মানুষ ছিলেন বলেই এখান থেকে আহমদ আলীর মতো গুণীজনের জন্ম হয়েছে।”
বাংলাদেশে দ্বীনি শিক্ষার হাজার বছরের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “দ্বীনের আলো আমাদের মধ্যে কিছুটা হলেও অবশিষ্ট আছে। এই শিক্ষাকে যেকোনো মূল্যে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, কীভাবে এটিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করা যায়।” পুটিবিলা হামেদিয়া মাদ্রাসা ভবিষ্যতে তাদের কর্মকাণ্ড ও অগ্রযাত্রা আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবু বকর রফিক, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. শাযাআত উল্লাহ ফারুকী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম সোহরাব উদ্দিন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. ইব্রাহিম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান, এস এম লুৎফর রহমান, অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক হোছাইন, আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু মুছা মুহাম্মদ খালিদ জমিল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গনি, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল আহমদ ও অধ্যক্ষ মাওলানা মো. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডা. নাজিম উদ্দিন, মুহাম্মদ আমিনুল এহসান, আবু বকর মুহাম্মদ সাফওয়ান ও মিনহাজ উদ্দিন আলোচনায় অংশ নেন।