
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিশ্বব্যাংক ও সরকারি অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। তবে ড্রেনের নকশার মধ্যে পড়া বিদ্যুতের খুঁটিগুলো না সরিয়েই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পটিয়া পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগের (পিডিবি) মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকল্পের কাজের গুণগত মান ও দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)’-এর আওতায় পটিয়া পৌরসভায় ৯টি আরসিসি সড়ক, আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেন এবং স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। গত দুই মাস ধরে পৌর সদরের উপজেলা গেট থেকে দক্ষিণ পাশের এক কিলোমিটার এলাকায় আরসিসি ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইটি এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মমতাজ এন্ড সন্স’।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ড্রেনের মাঝখানে অন্তত ৮টি বিদ্যুতের খুঁটি রয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুঁটিগুলো রেখেই ড্রেনের অন্য অংশের কাজ দ্রুতগতিতে শেষ করছে। যেসব স্থানে খুঁটি রয়েছে, আপাতত সেসব অংশের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় পথচারী মো. ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুঁটি না সরিয়ে এভাবে ড্রেন নির্মাণ করলে কাজের গুণগত মান খারাপ হতে পারে এবং পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দাবি করেন, খুঁটি সরানোর জন্য তারা বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে (বিপিডিবি) ছয় মাস আগেই চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু পিডিবি এখনো খুঁটিগুলো সরায়নি। তিনি বলেন, আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে তারা খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলবে। খুঁটি সরানোর পর ফাঁকা রাখা স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হবে, তাই কাজের মান ঠিক থাকবে।
তবে পৌরসভার দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন পটিয়া বিপিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম রেজাউন্নবী। তিনি বলেন, পৌরসভা ৬ মাস আগে চিঠি দেওয়ার যে দাবি করছে তা সঠিক নয়। আমরা চিঠি পেয়েছি মাত্র এক মাস আগে। যেহেতু চিঠি পাওয়া গেছে, তাই কাজ চলমান রয়েছে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।