
শহীদ ওসমান হাদি, শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস ও শিশু আয়েশা হত্যার বিচার, গণমাধ্যমে হামলা বন্ধ এবং রাউজানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী হাসান মুরাদ শাহ এবং সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সমন্বয়কারী মো. মোরশেদুল আলম। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমি, চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী চিরন্তন চিরু, উত্তর জেলার সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন তালুকদার, নির্বাহী সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল আলম, মহানগর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সাধন দত্ত, মহানগর সদস্য কলি কায়েয, ফয়সাল উদ্দিন নয়ন, মো. জাহেদ হাসান ও মো. মামুন। এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন যুব ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা তাহমিদুল ইসলাম তামিম, জুলাই যোদ্ধা শওকত ওসমান তৌকির ও শাকিব মাহাতাব রামি।
বক্তারা বলেন, দেশে চলমান সহিংসতা ও নৈরাজ্যের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক। সরকারের এই নীরবতা নিন্দনীয় উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, গণমাধ্যমকে আতঙ্কে রেখে সত্য উচ্চারণ বন্ধ করাই যেন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। ছায়ানট, উদীচী, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ওসমান হাদির মৃত্যুকে পুঁজি করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা।
চট্টগ্রামের রাউজানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সমাবেশ থেকে ওসমান হাদি, শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস ও শিশু আয়েশাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ন্যায়বিচার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেন বক্তারা।