শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

আধিপত্য বিস্তারে খুনোখুনি, অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াতের

জামিনে বেরিয়ে আসছে খুনিরা, অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে: নজরুল ইসলাম
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:১৩ অপরাহ্ন


জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানবাজার দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মপরিষদ বৈঠকে এই দাবি জানান দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারা দেশে ভয়, অনিশ্চয়তা ও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও খুনিচক্র এখনো আইনের আওতায় আসেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে জনবহুল এলাকায় গুলি করে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি শরিফ উসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এছাড়া মিরসরাইয়ে এক জুলাই যোদ্ধা খুন হয়েছেন এবং খুলনায় গুলিতে একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

নগর জামায়াতের আমীর অতীতের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চলতি বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় গুলিতে সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক যুবক নিহত হন। ওই ঘটনায় বিএনপির নগর আহ্বায়কসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে বাকলিয়া এক্সেস রোডে মো. আব্দুল্লাহ আল রিফাত ও মো. বখতিয়ার হোসেন, মে মাসে পতেঙ্গা সৈকতে আলী আকবর এবং অক্টোবরে বাকলিয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নিহত হন। বাকলিয়ার ঘটনায় দীর্ঘ সময় গোলাগুলির অভিযোগও রয়েছে।

জামায়াত নেতার অভিযোগ, এসব ঘটনায় সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কয়েক দিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসছে। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এসব হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। সিএমপি কমিশনার নির্বাচনের আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অ্যালার্মিং’ উল্লেখ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সফলতা কামনা করছি। আশা করি, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, মাওলানা মমতাজুর রহমান, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, ড. মাহবুবুল আলম, ফখরে জাহান সিরাজী, মাহমুদুল আলম, প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল ও ড. আ. ম. ম. মাসরুর হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।