
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইফেরত চার যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৮৬৭ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ৫০ পিস আমদানিনিষিদ্ধ রং ফর্সাকারী ক্রিম জব্দ করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা ওই যাত্রীদের কাছ থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে জানানো হয়, সোমবার রাতে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে চট্টগ্রামে অবতরণ করেন যাত্রী রেজাউল করিম, মিজানুর রহমান, রিদওয়ানুল হক ও মো. সালাউদ্দিন। কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাঁদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও নিষিদ্ধ ‘গৌরী’ ক্রিম পাওয়া যায়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, জব্দ করা ৮৬৭ কার্টন সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। জব্দকৃত সিগারেট ও নিষিদ্ধ ক্রিম চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চার যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জব্দ করা ৫০ পিস ‘গৌরী’ ক্রিম পাকিস্তানে তৈরি। ২০২০ সালে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাজার থেকে সংগ্রহ করা আটটি রং ফর্সাকারী ক্রিমে ক্ষতিকর মাত্রায় পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পায়। এর মধ্যে গৌরী ক্রিম অন্যতম। এসব প্রসাধনী ব্যবহারে চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি থাকায় সংস্থাটি এর বিক্রি ও আমদানি নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে আকাশপথে যাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে এই ক্রিম দেশে আনার প্রবণতা বেড়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী একজন যাত্রী বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় সর্বোচ্চ এক কার্টন সিগারেট সঙ্গে আনতে পারেন। এর বেশি আনার সুযোগ নেই। এছাড়া আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে বাংলায় ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ লেখা থাকা বাধ্যতামূলক। জব্দ করা সিগারেটে এসব নিয়ম মানা হয়নি।