
এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ছয় ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ আরমান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার সুনিল দাসের ছেলে চান্দু দাশ এবং ভোলার চরফ্যাশন এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে শাহিন মিয়া, মো. হারুনের ছেলে মো. আমির, ফারুকের ছেলে মো. কবির, ইলিয়াসের ছেলে মো. শরিফ ও সালাউদ্দিনের ছেলে মো. কিরণ। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে হালদা নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছিল। বুধবার বিকেলেও তারা অবৈধভাবে বালু তুলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় হাতেনাতে আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় হাটহাজারীর জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হালদা পাড়ের পাহারাদাররা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ আরমান বলেন, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।