
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সব আলোচনার অবসান ঘটিয়ে আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটির ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দলের নেতা-কর্মীদের কাছে শুধু একটি আগমন নয়; বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং নতুন করে পথচলার সংকল্প। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি যখন চিকিৎসার জন্য সপরিবার লন্ডন যান, তখন তিনি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। আজ ফিরছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর এই ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিমানটি সিলেটে যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। বিমানবন্দরের রেড জোনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সমাবেশ শেষে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে যাবেন এবং সেখানেই অবস্থান করবেন। এছাড়া পরদিন ২৬ ডিসেম্বর বাদ জুমা তিনি শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ২৭ ডিসেম্বর তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। একই সঙ্গে তিনি শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তারেক রহমানকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। কুড়িল মোড়সংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়কের উত্তর পাশে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাঁবু এবং ল্যাম্পপোস্টে মাইক বসানো হয়েছে। পুরো এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী বাস, ট্রাক ও লঞ্চে করে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে অপেক্ষমাণ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সহসভাপতি ফেরদৌস নাভিদ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার ও ভোটের অধিকার। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতেই ঢাকায় এসেছি।
নিরাপত্তার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) চাওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া সম্ভাব্য জনসমাগম বিবেচনায় বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুট এলাকা ও উত্তরায় ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের কাছে আইসিইউ সুবিধাসহ অ্যাম্বুলেন্স ও ছয় শয্যার মেডিকেল ক্যাম্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।