
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেই অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এর আগে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজ রঙের বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতালের ফটকে এসে থামে। বাস থেকে নেমে তিনি হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই সেখানে উপস্থিত হন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তাঁরা বিমানবন্দর থেকে প্রথমে গুলশানের বাসভবনে যান এবং পরে হাসপাতালে আসেন।
পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে (৩০০ ফুট এলাকা) আয়োজিত গণসংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান সরাসরি হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথের দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় থাকায় তাঁকে বহনকারী গাড়িটি হাসপাতালে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
হাসপাতালে যাওয়ার আগে গণসংবর্ধনা সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান তাঁর আবেগের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন—অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকাল থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। যদিও দলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল এলাকায় স্লোগান দিতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবুও প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁরা। এ সময় দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন হাতে নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তারেক রহমান মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন তাঁর শাশুড়ি।