
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন সমঝোতা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির একাংশ ইতিবাচক হলেও দলের ভেতরে ভিন্নমতও জোরালো হচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনসিপির ভেতরে এবং তাদের মিত্র জোটের মধ্যে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এনসিপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনে ছাড় চাইলেও জামায়াত এ সংখ্যাকে বেশি মনে করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা আবদুল কাদের দাবি করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। তিনি জানান, এনসিপি ৫০টি আসন চাইলেও দর-কষাকষির পর ৩০টি আসনে রফা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না। শুক্রবার এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন আবদুল কাদের।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার এই প্রক্রিয়ায় এনসিপির ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের একটি অংশ এর পক্ষে থাকলেও আরেকটি অংশ ঘোর বিরোধিতা করছে। এরই জেরে বৃহস্পতিবার এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক, যিনি জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত।
এর আগে বিএনপির সঙ্গেও এনসিপির আসন সমঝোতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের বোঝাপড়া হয়নি। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আবারও আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখেছেন যে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া জিতে আসা কঠিন। তাই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গেও তাঁরা সরাসরি সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন।
এনসিপির এই তৎপরতায় ফাটল ধরেছে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’-এ। গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে এই জোট গঠন করেছিল। লক্ষ্য ছিল বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় একটি শক্তিশালী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।
কিন্তু এনসিপি ও এবি পার্টি এখন বড় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া। তিনি বলেন, তিন দলের আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছিল যে আমরা বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হব। কিন্তু দুই দিকে আলোচনা করে সেই বোঝাপড়া লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানাব।
এনসিপি ও জামায়াতের আসন সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং বিএনপির সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু হয় কিনা, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।