শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চকরিয়া-পেকুয়ায় নতুন সমীকরণে জাতীয় নির্বাচন

সালাহউদ্দিনের অভিজ্ঞতার বিপরীতে জামায়াতের তারুণ্য, জমে উঠেছে চকরিয়ার ভোট
এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৪২ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ভোটের মাঠের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, এ আসনে এবার মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫ জন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার নতুন ভোটার বেড়েছে ৪৬ হাজার ৮৪৩ জন। কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার রয়েছে এই আসনে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৫ জন। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ জন এবং পেকুয়া উপজেলায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ জন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ জন।

নির্বাচনের জন্য দুই উপজেলায় মোট ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১১৬টি এবং পেকুয়ায় ৪৩টি কেন্দ্র রয়েছে। পেকুয়া উপজেলায় গতবারের চেয়ে একটি কেন্দ্র কমেছে। প্রস্তাবিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোট বুথ সংখ্যা ধরা হয়েছে ৯৯১টি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত থাকায় বুথ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন নির্বাচনে এ আসন থেকে ছয়জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, এবি পার্টির পর্যটকবিষয়ক সহসম্পাদক অধ্যাপক এবি ওয়াহেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্যবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল কাদের প্রাইম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের মধ্যে। সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল ফারুকসহ অন্য পাঁচ প্রার্থীই নির্বাচনে নতুন মুখ। আওয়ামী লীগ এবার মাঠে না থাকায় বিএনপির একচেটিয়া জয়ে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের এই তরুণ প্রার্থী।

চকরিয়া ও পেকুয়া আসনের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, ১৯৯১ সালে জামায়াতের অধ্যাপক এনামুল হক মঞ্জু, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন) এবং ২০০১ সালে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ কারাগারে থাকায় তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের জাফর আলম এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় করছেন তাঁরা। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া সব দলের প্রার্থীরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, ৪৬ হাজার নতুন ভোটার এবং জামায়াতের তরুণ প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণে এবার ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে।