
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শুয়িয়ে রাখা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়ে শুক্রবার বিকেলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। সেখানে তিনি বাবার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। জিয়ারত ও মোনাজাত শেষে বাবার কবরের পাশে বেশ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এ সময় তাঁকে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায় এবং তাঁর চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে এবং দীর্ঘদিন পর বাবার কবরে ছেলেকে দেখতে পেয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান এখানে শেষবার শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কারণে আর এখানে আসা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তিনি বাবার কবরে আসার সুযোগ পেলেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ফেরার দিনই তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় দলের দেওয়া বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে সরাসরি অসুস্থ মাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং পরে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের।