শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

মাহফুজ-আসিফকে জোটে চায় না জামায়াত, আসন ভাগাভাগিতে জটিলতা

বিএনপির উপেক্ষায় জামায়াতের দুয়ারে অলি আহমদ ও ছোট দলগুলো
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২:৪২ অপরাহ্ন


অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জোটের প্রার্থী করতে রাজি নয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির নীতিনির্ধারকদের যুক্তি, এই দুজনকে প্রার্থী করলে তাঁদের ‘বিতর্কিত’ কাজের দায়ভার জামায়াত-এনসিপি জোটের ওপর পড়বে। এছাড়া এই জোটকে ‘সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট’ হিসেবে চিত্রিত করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভোটের প্রচারে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবে।

জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য জোটের আলোচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, এনসিপি মূলত এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়েই জোটে আসতে চায়। মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদও দলীয় অবস্থান ও প্রার্থিতা নিশ্চিত করা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নন। তবে জামায়াত নেতাদের মূল্যায়ন, একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে এবং অন্যজন উপদেষ্টা থাকাকালে জামায়াত ও দলটির মতাদর্শ নিয়ে লাগাতার সমালোচনা করেছেন। ফলে তাঁদের প্রার্থী করলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টাদের প্রার্থী করলে জোটটি প্রশাসনের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকিও দেখছে জামায়াত।

এদিকে গত বুধবার এনসিপির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ৯০ শতাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক ড. নাসিমুল হুদা (মূল সংবাদের তথ্যানুযায়ী এখানে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ থাকলেও এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নাম বসাতে হবে, তবে সোর্স টেক্সটে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের কথা বলা হয়েছে যারা আলোচনার দায়িত্বে আছেন) এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন আসন বণ্টনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব নাহিদ সারোয়ার নেভাসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের ক্ষোভ প্রশমনে কয়েকজনকে জোটের প্রার্থী করার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষিতেও জটিলতা কাটছে না। জামায়াতের কাছে এনসিপি ও তাদের মিত্র এবি পার্টি মিলে ৫০টি আসন দাবি করেছে। তবে জামায়াত ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। জামায়াতের শর্ত হলো, ছেড়ে দেওয়া আসনের বাইরে এনসিপি আর কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না। কিন্তু এনসিপি চায়, ৩০টি আসন সমঝোতা হলেও আরও ১০-২০টি আসনে তারা ‘শাপলা কলি’ বা স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রার্থী রাখবে। তবে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ৩০০ আসনে জোটের ৩০০ জন একক প্রার্থী থাকবেন, এর বাইরে কেউ দাঁড়ালে জোটের শৃঙ্খলা থাকবে না।

অন্যদিকে এনসিপির জোটসঙ্গী ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’-এর সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের আলোচনার বিষয়টি তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এনসিপি ও এবি পার্টি যদি এই পথে হাঁটে, তবে তা জোটের মূল আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তুষ্ট। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন প্রথমে ১৫০ আসন চাইলেও এখন ১০০ আসনে অনড়। জামায়াত তাদের ৩০ থেকে ৩৫টি আসন দিতে চায়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রথমে ৫০টি ও পরে ৩৫টি চাইলেও জামায়াত তাদের ১০-১২টির বেশি দিতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম সচিব আতাউল্লাহ আমিন তা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে বিএনপির কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত আসন না পেয়ে এলডিপিসহ অন্য মিত্ররাও জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের এলডিপি বিএনপির কাছে মাত্র একটি আসন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জামায়াতের কাছে সাতটি আসন চেয়েছেন। জামায়াত তাঁকে একটির বেশি আসন দিতে সম্মত না হলেও অলি আহমদকে জোটের বড় নেতা হিসেবে ‘বিশেষ সম্মান’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া ১২ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাফর) নেতা আহসান হাবিবও কুষ্টিয়া-২ আসনে সমর্থন চেয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

জানা গেছে, মাহফুজ আলম নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট না করলেও আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি প্রথমে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপি তাতে রাজি হয়নি। এখন এনসিপিতে যোগ দিয়ে জামায়াত জোটের প্রার্থী হতে তিনি প্রস্তুত বলে জানা গেছে।