শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ওসমান হাদি হত্যা: প্রধান দুই আসামি পালিয়ে ভারতে, গ্রেপ্তার ১১

হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, মিলল ৫৩ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, ৭-১০ দিনে চার্জশিট, জানাল ডিএমপি
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩:৫৫ অপরাহ্ন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তাঁরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বর্তমানে মেঘালয় রাজ্যে অবস্থান করছেন। রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ‘শুটার’ ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিনই শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁকে সহায়তাকারী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করে পুলিশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আমিনবাজার যান। পরে তাঁরা মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে একটি প্রাইভেট কারে চড়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান।

পুলিশের বর্ণনামতে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এ কারণে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার আগেই তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিতে সক্ষম হন। হালুয়াঘাটের আগে একটি ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্চয় নামের দুজন তাঁদের রিসিভ করার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। ফিলিপ তাঁদের সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর পুত্তি তাঁদের সামি নামের একজন ট্যাক্সিচালকের কাছে বুঝিয়ে দেন। সামি পরে তাঁদের মেঘালয় রাজ্যের তুরা নামক শহরে পৌঁছে দেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, ইনফরমাল চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে পুত্তি ও সামিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশে গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের মধ্যে শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ূন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, সহযোগী মো. কবির এবং নুরুজ্জামান নোমানী রয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি ছোরা, মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে পুলিশ জানায়, তদন্তকালে আসামিদের প্রায় ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে প্রধান আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন। তবে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে আসামিরা ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।