শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘রাজনৈতিক’ অবহেলায় অচল দীঘিনালার স্লুইচ গেট, সংকটে ১০০ একর জমির আবাদ

জাকির হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬:৪৬ অপরাহ্ন


খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে দীর্ঘ এক দশক ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে একটি স্লুইচ গেট। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন কৃষকদের কোনো কাজেই আসছে না; উল্টো বর্ষায় সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতা। ফলে উপজেলার ছোট মেরুং এলাকার সোবাহানপুর, সওদাগর পাড়া, ৩ নম্বর কলোনি ও মেরুং বাজার এলাকার প্রায় শতাধিক একর কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সোবাহানপুরের মেরুংপারা ছড়ার ওপর এই স্লুইচ গেটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত আট-দশ বছর ধরে এটি কার্যত অচল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অযত্নে গেটটির পার্শ্ব দেয়াল ও কংক্রিটের আস্তরণ খসে পড়ছে এবং লোহার অংশে মরিচা ধরেছে। গেটের তিনটি দরজার মুখই মাটি, আগাছা ও পলিথিনে ভরাট হয়ে আছে। এছাড়া কৃষি জমিতে পানি পৌঁছানোর শাখা ড্রেনগুলোও ভরাট হয়ে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইচ গেটটি অচল হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। তাঁরা জানান, তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আসনের বর্তমান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া যখন এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন এটি নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার ধরণা দিলেও ‘রাজনৈতিক কারণে’ এটি সংস্কারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে কৃষকদের দাবি।

সওদাগর পাড়ার কৃষক মো. নেছার হক বলেন, স্লুইচ গেটটি অকার্যকর থাকায় আমার দুই একর জমি চাষ করতে পারছি না। পানি না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে ফসল চাষ করতে না পারায় আমি আর্থিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

একই এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কাশেম জানান, তাঁর প্রায় দুই একর জমি এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বোরো মৌসুমে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে এবং ফলন কমে যাচ্ছে।

আরেক কৃষক চমক আলি বলেন, আমি চার একর জমিতে চাষ করি। আগে এই গেটের পানি দিয়েই সহজে সেচ দেওয়া যেত। এখন পানির অভাবে ঠিকমতো জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বোরো ও শীতকালীন শুষ্ক মৌসুমে যখন সেচ সবচেয়ে জরুরি, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হয়।

এ বিষয়ে মেরুং ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা বলেন, স্লুইচ গেটটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায় কৃষকেরা ব্যাপক ভোগান্তিতে আছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

ছোট মেরুং কৃষি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল আবরার বলেন, স্লুইচ গেটটি অকার্যকর থাকায় প্রায় একশ একর কৃষি জমিতে বোরো মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে কৃষকেরা চাষাবাদে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমি এটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সেচ সুবিধা না থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্লুইচ গেটটি সংস্কার করা হলে এই এলাকার কৃষকেরা আবার স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখব।