শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

৫ নির্বাচনে ২৩ আসনে জয়ী, হারের রেকর্ড নেই খালেদা জিয়ার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ন


বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এবং নির্বাচনী পরিসংখ্যানে এক অনন্য রেকর্ডের নাম বেগম খালেদা জিয়া। ফেনী, বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর থেকে শুরু করে খুলনা—যেখানেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন, সেখানেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র উদাহরণ, যিনি পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৩টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয়লাভ করেছেন। ভোটের মাঠে পরাজয়ের কোনো গল্প বিএনপির এই চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক ডিকশনারিতে নেই।

এমনকি যেসব নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারেনি, সেসব নির্বাচনেও তিনি যতটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তার সব কটিতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে জয়ী হয়েছেন।

১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনগুলো হলো—বগুড়া–৭, ঢাকা–৫, ঢাকা–৯, ফেনী–১ ও চট্টগ্রাম–৮। এই পাঁচটি আসনেই তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেন।

এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী–১ ও ২, বগুড়া–৭, সিরাজগঞ্জ–২ ও রাজশাহী–২ আসন থেকে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। তখন তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। যদিও একতরফা ওই নির্বাচন বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই সংসদেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হওয়ার পর শপথ নেওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও খালেদা জিয়াকে কেউ হারাতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তিনি বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, ফেনী–১, লক্ষ্মীপুর–২ ও চট্টগ্রাম–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই বিজয়ী হন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও খালেদা জিয়ার বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে। তিনি বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, খুলনা–২, ফেনী–১ ও লক্ষ্মীপুর–২—এই পাঁচ আসনে প্রার্থী হয়ে সব কটিতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন একজন প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নির্ধারণ করে দেয়। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া–৬, বগুড়া–৭ ও ফেনী–১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তিনটি আসনেই বিজয়ী হয়ে নিজের অপরাজেয় রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখেন।

খালেদা জিয়ার এই অবিস্মরণীয় নির্বাচনী সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, খালেদা জিয়া ভীষণ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর ‘আপসহীন’ ইমেজের কারণে দল-মতনির্বিশেষে সবাই তাঁকে পছন্দ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সবাই ধরে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে; কিন্তু সে সময় টিভিতে খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছিল। তুমুল জনপ্রিয়তার কারণেই তিনি প্রতিবার সব কটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন আরও বলেন, খালেদা জিয়া কখনো অসংযত হয়ে কথা বলেননি। তাঁর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আচরণ ও পরিমিত কথা ভোটের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলত।