
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানের কিছুক্ষণ পরই এক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজ কাকারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম (৩৪) চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
নিহত সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজধানী পাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন।
সাইফুলের স্ত্রী রিনা আক্তারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হওয়া একটি মামলার আসামি ছিলেন তাঁর স্বামী। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ তাঁকে না পেয়ে চলে যাওয়ার পরপরই ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত হেলমেট পরা অবস্থায় বাড়িতে হানা দেয়। তারা সাইফুলকে বাড়ির পেছন থেকে ধাওয়া করে দিগম্বর অবস্থায় পাশের একটি বিলে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
রিনা আক্তার দাবি করেন, সম্প্রতি বাড়ির পাশে প্রতিবেশীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁর স্বামী ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে থাকলেও পরে দায়ের করা মামলায় তাঁকেও আসামি করা হয়। সেই মামলার জেরেই পুলিশ ও পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা হানা দেয়।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল বাড়ির অদূরে একটি বিল থেকে সাইফুলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, সোমবার রাতে মামলার আসামি হিসেবে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। এরপর সেখানে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভোরে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যে অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।