
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। তাঁর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্বনির্ধারিত সভা স্থগিত করে তাৎক্ষণিকভাবে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়। এ সময় নেতারা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় শোকসভার শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
শোকসভায় প্রেস ক্লাব নেতারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি সবসময় ছিলেন আপসহীন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব এদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন অভিভাবকসুলভ নেত্রীকে হারাল, যা দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
সভায় চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়। নেতারা জানান, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের চরম দুঃসময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছিলেন। এছাড়া ২০০১ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের জন্য কল্পলোকে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেন। এর আগে ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও নগরীর বায়েজিদ এলাকায় সাংবাদিকদের আবাসিক সংকট দূর করতে নামমাত্র মূল্যে ১৬ একর জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।