শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘আপসহীন নেত্রী’কে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল

মানিক মিয়া এভিনিউতে শোকের মাতম
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১:২১ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন এই এভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে এবং জানাজায় শরিক হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ ধারণ করে ছুটে আসছেন লাখো মানুষ।

সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউ জনসমুদ্রে পরিণত হতে শুরু করে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে অবস্থান নেন। চারদিক থেকে স্রোতের মতো মানুষ জানাজাস্থলে আসছেন। তাঁদের চোখে-মুখে এক ‘আপসহীন দেশনেত্রী’কে হারানোর বেদনা স্পষ্ট।

খামারবাড়ি এলাকায় কথা হয় নিজ খরচে ঢাকায় আসা আতিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই সময়ে বাড়িতে থাকা যায় না। এমন আপসহীন নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব কমই এসেছে। শেষ বিদায়ে শরিক হতে না এলে নিজের কাছে অপরাধ মনে হতো।

ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. সোলেমান জানান, শীতের কারণে লঞ্চে আসতে দেরি হয়েছে, শরীরও ভালো নেই। তবু তিনি এসেছেন। তাঁর কথায়, ম্যাডামের জন্য একটা আলাদা টান কাজ করেছে। চুপচাপ জানাজায় দাঁড়িয়ে দোয়া করাই আমার চাওয়া।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে পরিচিতদের নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আবু বকর। তিনি বলেন, আমরা কোনো মিছিল বা স্লোগানের জন্য আসিনি। শুধু শেষবারের মতো সম্মান জানাতে চাই। জানাজায় দাঁড়াতে পারলেই আমাদের আসা সার্থক হবে।

রাজশাহী থেকে আসা ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রবীণ কর্মী ইসমাইল হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ম্যাডামের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে আমাদের মাথার ওপর থেকে একটা ছায়া সরে গেছে। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। এই কাঁপানো শীতেও আমরা এসেছি কেবল তাঁর জন্য দোয়া করতে।

সিলেট থেকে আসা মাঠপর্যায়ের কর্মী জামার উদ্দিন বলেন, আজ কোনো শোডাউনের দরকার নেই। নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখা আর জানাজায় দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি। তাঁর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেটা আর পূরণ হওয়ার নয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ২টায় জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়াকে চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মানিক মিয়া এভিনিউসহ পুরো এলাকায় বিজিবি মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস বন্ধ থাকলেও জরুরি পরিষেবা এর আওতামুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।